অনলাইন ডেস্ক
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেছেন, "অনেক উপদেষ্টা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে ফেলেছেন এবং এখন নিজেদের `সেফ এক্সিট` বা নিরাপদ প্রস্থানের কথা ভাবছেন"। তার এই বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।
গত শনিবার একাত্তর টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। চ্যানেলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া ফটোকার্ডে রোববার রাত ৯টা পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এবং ১,৪০০টির বেশি মন্তব্য এসেছে।
২০২৫ সালের জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত গণ-অভ্যুত্থানের সময় সরকার পতনের এক দফা দাবিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন নাহিদ ইসলাম, তখন তিনি ছিলেন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর সমন্বয়ক। অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে তিনি তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত হন।
তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পদত্যাগ করে তিনি নতুন রাজনৈতিক সংগঠন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়কের দায়িত্ব নেন। অন্যদিকে, একইভাবে ছাত্রদের পক্ষ থেকে সরকারে যোগ দেওয়া মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এখনও উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।
সাক্ষাৎকারে নাহিদ বলেন, "আমরা কেউ উপদেষ্টা হতে চাইনি। আমাদের লক্ষ্য ছিল জাতীয় সরকার গঠন। রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের ওপর ভরসা করেই আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। কিন্তু সময়ের সঙ্গে প্রমাণ হয়েছে—সেই আস্থার জায়গায় আমরা প্রতারিত হয়েছি।"
তিনি আরও বলেন, "অনেক উপদেষ্টা নিজেদের আখের গুছিয়েছেন, কেউ কেউ গণ-অভ্যুত্থানকে ব্যবহার করে আবার তার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন। তারা ভেতরে ভেতরে লিয়াজোঁ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে। এখন তারা নিজেদের জন্য সেফ এক্সিট চাইছেন।"
নাহিদ ইসলাম এও জানান, "যখন সময় আসবে, আমরা সেইসব উপদেষ্টার নামও প্রকাশ করব, যারা অভ্যুত্থানের চেতনা থেকে সরে গেছেন বা বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন।"
তার এই বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ তার বক্তব্যকে সাহসী বলে অভিহিত করছেন, আবার অনেকেই বলছেন, এটি অন্তর্বর্তী সরকারের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার প্রকাশ।
নাহিদের বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর হতাশা ও ক্ষোভে রয়েছেন। বিশেষ করে উপদেষ্টাদের ভূমিকা নিয়ে তার অভিযোগ আগামী দিনে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বড় কোনো রাজনৈতিক প্রকাশ বা নথি উন্মোচনের সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে তার কথায়।