অনলাইন ডেস্ক
দল হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) নামে একটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ জমা দেয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “আমরা এখন দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে একটি অপরাধী সংগঠন হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করার প্রশ্নে প্রাথমিক তদন্তের কাজ শুরু করেছি। পুরোপুরি তদন্ত শুরু হলে বিস্তারিত জানা যাবে দলটির বিচার কতদূর গড়াতে পারে।”
ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, তদন্তের দায়িত্বে একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং জুলাই-আগস্ট মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংগঠিত ঘটনাগুলোর আলোকেই তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আজ শেষ সাক্ষীর তৃতীয় দিনের জেরা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মামলাটি শুনানি হচ্ছে বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ।
মামলার মূল তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরকে জেরা করছেন আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী। এর আগে গতকালও দিনব্যাপী তাকে জেরা করা হয়। জেরা চলাকালে আলোচিত রাজসাক্ষী চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে নিয়ে প্রশ্ন করলে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, “কোনো চাপে নয়, বরং সত্য উদঘাটনের স্বার্থেই তিনি রাজসাক্ষী হয়েছেন।”
তিনি আরও জানান, জুলাই মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সরকারদলীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী ৫০টিরও বেশি জেলায় মারণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। শেখ হাসিনার মামলায় এখন পর্যন্ত ২৫ কার্যদিবসে ৫৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। আজ ৫৪তম সাক্ষীর জেরা শেষ হলে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হবে।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য, “জুলাইয়ের গণহত্যায় যারা জড়িত, তারা কেউই আইনের বিচারের হাত থেকে রেহাই পাবে না।”