অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতি পাওয়া পণ্যের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০টিতে। তবে এসব পণ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ হিসেবে উঠে এসেছে—জিআই ট্যাগের সদ্ব্যবহার না হওয়া, রপ্তানিতে প্রণোদনার অভাব, প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ঘাটতি ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) জানায়, ২০১৫ সালে নারায়ণগঞ্জের জামদানি শাড়িকে প্রথমবারের মতো জিআই স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৬০টি পণ্য এই মর্যাদা পেয়েছে।
চলতি বছরের এপ্রিলেই একসঙ্গে ২৪টি পণ্যকে জিআই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ সংযুক্ত হয়েছে ফরিদপুরের পাট।
বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোক্তাদের মতে, জিআই ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্যের রপ্তানি বাড়ছে না মূলত নিচের কারণগুলোয়:
🔸 কার্যকর জিআই ব্র্যান্ডিং ও প্রচারের অভাব
🔸 বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে সার্টিফিকেশন নিয়ে সমঝোতার ঘাটতি
🔸 রপ্তানিতে উচ্চ পরিবহন ব্যয় ও লজিস্টিক সমস্যা
🔸 জিআই পণ্য যাচাইয়ের জন্য ল্যাব বা অবকাঠামো ঘাটতি
🔸 জিআই আবেদন প্রক্রিয়ার জটিলতা, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অনুপস্থিতি
বিল্ড (বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট)-এর গবেষণা পরিচালক ড. ওয়াসেল বিন সাদাত বলেন, “জিআই পণ্যের ব্র্যান্ডিং ও বাজার সম্প্রসারণে জরুরি—জিআই ট্যাগের ব্যবহার নীতি, খাতভিত্তিক কৌশল, সার্টিফিকেশন এবং ট্রেসেবিলিটি সিস্টেম চালু করা।”
আইপি ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ব্যারিস্টার হামিদুল মিসবাহ বলেন, “ক্রেতারা জিআই ট্যাগ দেখে পণ্য কেনেন। কিন্তু অধিকাংশ পণ্যে এই ট্যাগ দৃশ্যমান নয়। ব্র্যান্ডিং না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করা সম্ভব নয়।”
২০১৭ সালে চারটি জাতের আম (খিরসাপাত, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, হিমসাগর) জিআই সনদ পেলেও রপ্তানি তেমন বাড়েনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ বলেন:
একটি হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন করতে ২–২.৫ কোটি টাকা প্রয়োজন, যা স্থানীয় উদ্যোক্তাদের পক্ষে অসম্ভব।
রপ্তানির আগে ঢাকায় আম পরীক্ষা করতে হয়, এতে খরচ বাড়ে।
ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে কার্গো বিমানের ভাড়া তিনগুণ, ফলে রপ্তানি অলাভজনক হয়ে পড়ে।