নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য সরকারি-বেসরকারি খাত ও স্থানীয় অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগ একান্ত প্রয়োজন। তারা মনে করেন, প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে হলে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পর্যটন চর্চা অবলম্বন করতে হবে।
‘ট্যুরিজম অ্যালায়েন্স সোসাইটি’ গত শনিবার রাজধানীর ডেইস হোটেলে ‘পর্যটন ও টেকসই রূপান্তর: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের (বিটিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুজহাত ইয়াসমিন এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান সায়মা শাহীন সুলতানা। তাদের দুজনকেই আয়োজকদের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নুজহাত ইয়াসমিন বলেন, “বাংলাদেশের পর্যটন খাতে সম্ভাবনা বিপুল। এই খাতকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের অবশ্যই টেকসই পর্যটনের পথে হাঁটতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি সব পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
বিপিসির চেয়ারম্যান সায়মা শাহীন সুলতানা বলেন, “ইকো-ট্যুরিজমসহ বিভিন্ন পর্যটন উদ্যোগে বিপিসি কাজ করছে। পর্যটন কেন্দ্রগুলোর উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগণকে যুক্ত করতে পারলেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।”
আলোচনায় অংশগ্রহণকারী পর্যটন খাতের নীতি-নির্ধারক ও সংশ্লিষ্টরা বলেন: বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরতে হবে সমন্বিত বিপণন কৌশল গ্রহণ জরুরি পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলা আবশ্যক স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে পর্যটনকে জনমুখী করতে হবে ট্যুরিজম অ্যালায়েন্স সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল একরাম বলেন, “আমরা চাই টেকসই পর্যটনের একটি সক্রিয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে। সব অংশীজনকে নিয়ে যৌথভাবে খাতটির রূপান্তরে ভূমিকা রাখতে চাই।”
সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি এইচ এম হাকিম আলী বলেন, “এটি শুধু দিবস পালনের আয়োজন নয়, বরং পর্যটনের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করার সময়। এখনই সঠিক নীতিমালা, সমন্বয় এবং বাস্তবায়নের সময়।”
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন তৌফিক রহমান। শেষাংশে আয়োজকরা উপস্থিত অতিথি, গণমাধ্যমকর্মী এবং অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানান।