অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশে কবিতা পাঠ ও পারফর্মেন্সকে নতুন মাত্রা দিতে যাত্রা শুরু করলো ‘শব্দায়ন – এ স্ট্যান্ডআপ পোয়েট্রি প্ল্যাটফর্ম’। রাজধানীর গোয়েথে-ইন্সটিটিউটে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ভাষার প্রতিনিধিত্বশীল ১৪ জন কবি ও আবৃত্তিশিল্পী বাংলা, মান্দি, ইংরেজি ও জার্মান ভাষায় কবিতা পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের বরেণ্য কবি, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। আয়োজনে মূল দায়িত্বে ছিল অতঃপর শব্দায়ন, সহযোগিতায় গোয়েথে-ইন্সটিটিউট বাংলাদেশ, পৃষ্ঠপোষকতায় ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি এবং ব্র্যান্ডিং পার্টনার হিসেবে ছিল বিজ্ঞাপনী সংস্থা মাত্রা।
কবিতার নতুন রূপ
`শব্দায়ন` কেবল কবিতা পাঠের আয়োজন নয়; এটি পারফর্মেটিভ কবিতার (Stand-up Poetry) এক নতুন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে কবিতা আবহসঙ্গীত, নৃত্যসহ অন্যান্য শিল্পের উপাদান যুক্ত হয়ে ভিন্নধর্মী এক সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হলো তরুণ ও প্রবীণ কবিদের একত্রে প্ল্যাটফর্ম দেওয়া, যেখানে ক্ল্যাসিক ও আধুনিক কবিতা একত্রে উচ্চারিত হবে নতুন রূপে।
শব্দায়নের উদ্যোক্তারা জানান, প্রাচীন চর্যাপদ থেকে খনার বচন, বৈষ্ণব পদাবলী থেকে পুঁথিপাঠ—বাংলা সংস্কৃতিতে পারফরম্যান্সভিত্তিক কবিতার ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। সেই ধারাকে আধুনিক রূপ দিয়ে ‘শব্দায়ন’ এক নতুন কবিতার আন্দোলনের সূচনা করেছে।
সারাদেশজুড়ে সম্প্রসারণ পরিকল্পনা
উদ্বোধনের পরবর্তী ধাপে এই আয়োজন বাংলাদেশের আটটি বিভাগীয় শহরে পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া, দেশ-বিদেশের আগ্রহী আয়োজকরাও নির্দিষ্ট গাইডলাইনের মাধ্যমে শব্দায়নের ব্যানারে আয়োজন করতে পারবেন।
আয়োজকরা পাঠের প্রস্তুতি ও অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রযোজনায় শব্দায়নের নির্দেশনা অনুসরণ করলে, সেসব কনটেন্ট শব্দায়নের ওয়েবসাইট ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হবে।
অতঃপর শব্দায়নের যাত্রা
২০১১ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে লিটল ম্যাগাজিন হিসেবে যাত্রা শুরু করে ‘অতঃপর শব্দায়ন’। ২০১৯ সাল থেকে এটি অডিও-ভিজ্যুয়াল মাধ্যমে কবিতা ও শিল্পকেন্দ্রিক নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
আয়োজকদের মতে, "শব্দায়ন কেবল একটি প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন—যার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে কবিতাপ্রেম জাগিয়ে তোলা এবং কবিতাকে জীবন্ত, দৃশ্যমান ও মনোগ্রাহী রূপে উপস্থাপন করাই আমাদের উদ্দেশ্য।"