অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশে জনসংখ্যায় নারীর সংখ্যা পুরুষের চেয়ে বেশি হলেও ভোটার তালিকায় এখনো পিছিয়ে আছেন নারীরা। নির্বাচন কমিশনের সদ্য প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, নারী ভোটার কম পুরুষের চেয়ে ১৯ লাখ ৪ হাজার ৬৩৬ জন।
২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট প্রকাশিত তালিকায় মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৬৩ লাখ ৭ হাজার ৫০৪ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৬ কোটি ২২ লাখ ৫ হাজার ৮১৯ জন, আর পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪১ লাখ ৪৫৫ জন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে রয়েছে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বাধা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মঈনুল ইসলাম জানান, নারীর শিক্ষার হার ও আয়ুষ্কাল বাড়লেও, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার হিসেবে নিবন্ধনে তারা পিছিয়ে। বিশেষ করে ২০-২৪ বছর বয়সী নারীরা ভোটার হতে পারেননি, যদিও এই বয়সে তারা ভোটার হওয়ার যোগ্য।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, "রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে নারী ভোটারের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি। সংরক্ষিত আসনে সরাসরি ভোট হয় না, সাধারণ আসনে মনোনয়নে নারীদের গুরুত্ব পেতে হলে তাদের ভোটার হিসেবেও শক্তিশালী হতে হবে।"
নারী শ্রমজীবী শ্রেণিতে সমস্যা আরও প্রকট।
গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি কল্পনা আক্তার বলেন, "অনেক নারী শ্রমিক ভোটার হওয়ার বিষয়ে সচেতন হলেও, ভোটার হতে গিয়ে ছুটি নেওয়া বা বেতন কাটার ঝুঁকি নিতে চান না।" ফলে এই শ্রেণির নারী ভোটার কমে যাচ্ছে।
সিপিবি সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, নারী ভোটার বাড়ানো না গেলে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নও বাধাগ্রস্ত হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত ভোটের স্বার্থেই নারী ভোটার বৃদ্ধিতে আগ্রহী হওয়া।
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, "ভোটার তালিকা হালনাগাদ এখনও চলমান। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যেসব নাগরিকের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তারা ভোটার হতে পারবেন।"
তিনি জানান, বস্তি, যাযাবর ও বেদে গোষ্ঠীকেও অন্তর্ভুক্ত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে, কাউকে জোর করে ভোটার বানানো যায় না, তাই সচেতনতা বাড়ানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।