অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীর উড়ালসড়ক, মূল সড়ক ও সরু গলিসহ সর্বত্র অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ব্যাপক দাপট চলছে। হঠাৎ ব্রেক, দ্রুতগতিতে মোড় নেওয়া এবং ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতার কারণে এগুলো এখন সড়কে বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হিসেবে পরিচিত। সিগন্যাল ভাঙা, উল্টো পথ দিয়ে চলাচলসহ এ গাড়িগুলো পুরো ট্রাফিক ব্যবস্থাকে অচল করে তুলছে।
যদিও ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত এগুলো জব্দ ও জরিমানা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। অপরদিকে, সিটি করপোরেশনও এই অবৈধ যানগুলোর নিবন্ধন বন্ধ রেখেছে। তবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) সম্প্রতি বুয়েটের তৈরি নিরাপদ নকশা অনুসারে নতুন ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমোদন দিতে যাচ্ছে।
ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, “আগামী মাস থেকে পরীক্ষামূলকভাবে দুইটি জোনে নতুন নিরাপদ রিকশাগুলো চালু করা হবে। আমরা পাঁচ বছরের জন্য লাইসেন্স দেব এবং প্রতি মাসে নির্দিষ্ট রোড পারমিট চার্জও নেব। নতুন রিকশাচালকদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১ লাখ রিকশাচালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, নতুন রিকশাগুলোতে এমন ডিভাইস থাকবে যা সড়কে অন্য জোনে প্রবেশের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। এই ব্যবস্থা চালু হলে মূল সড়কগুলো থেকে অনিরাপদ পুরনো রিকশাগুলো ধীরে ধীরে সরিয়ে ফেলা সম্ভব হবে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে প্রচুর অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা সড়কে চলাচল করছে যাদের অনেকেই ট্রাফিক আইন, সংকেত ও যাত্রী সুরক্ষা সম্পর্কে অবহিত নয়। ফলে শহরের ব্যস্ত সড়কগুলোতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে।
সরেজমিনে রাজধানীর খিলগাঁও, মগবাজার-মৌচাক, রামপুরা ও শান্তিনগরসহ বিভিন্ন ফ্লাইওভারে এই অবৈধ রিকশাগুলোর আধিপত্য লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ফ্লাইওভারগুলোতে সেগুলো দ্রুতগতির যানজট ও সড়ক ব্যবস্থার গতি হ্রাসের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গুলশান-বনানী এলাকায়ও এই রিকশাগুলোর অনুপ্রবেশে সাধারণ পথচারী ও বাসিন্দারা চরম বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, সিগন্যাল ভাঙা, উল্টো পথে চলাচল ও বেপরোয়া গতিতে ছোটা নিয়মিত ঘটনা। এতে ছোট-বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।
ঢাকা ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ধরনের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ঢাকায় অবৈধ। ট্রাফিক পুলিশ এই যানগুলো নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ঢাকার তেজগাঁও বিভাগের সহকারী কমিশনার জাকির হোসেন বলেন, “আমাদের ট্রাফিক পুলিশিং কার্যক্রম এই অবৈধ যানগুলোতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে আগারগাঁও মোড়ে নিয়মভঙ্গের প্রবণতা বেশি।”
ঢাকার সড়ক ব্যবস্থার সুচারু কার্যক্রমের জন্য এই অবৈধ যানগুলো নিয়ন্ত্রণে আনা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।