চলতি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির ভর্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য বরাদ্দকৃত ১ শতাংশ কোটায় (শিক্ষা কোটা-১) নজিরবিহীন জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। কলেজে ভর্তিতে নির্বাচিত হয়েছেন ২ হাজার ৭৭ জন শিক্ষার্থী, অথচ এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তান মাত্র ৩০ জন।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, শিক্ষা কোটা-২ (অর্থাৎ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারি স্কুল-কলেজ ও কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য নির্ধারিত) ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশনের স্থগিতাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি সোমবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে সব কলেজ অধ্যক্ষকে চিঠি প্রদান করেছে। এ কারণে শিক্ষা কোটা-২’র ১,২৯৪ শিক্ষার্থীর ভর্তি স্থগিত করা হয়েছে।
ভর্তির নীতিমালা অনুযায়ী, ৯৩ শতাংশ আসন মেধার ভিত্তিতে পূরণ হয় এবং বাকি ৭ শতাংশে মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ সংরক্ষিত থাকে। তবে কোটা ব্যবস্থার অপব্যবহার ও জালিয়াতির অভিযোগ প্রকৃত মেধাবীদের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, ‘বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনি কোটা থাকেনা, তাই কোটা কার্যক্রমের যৌক্তিকতাও প্রশ্নবিদ্ধ। তবুও মন্ত্রণালয় নিজের স্বার্থে কোটাগুলো বহাল রেখেছে, যা ভর্তি প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি করেছে।’
অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, ‘মেধা ও যোগ্যতার জায়গায় কোটার কারণে কম নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীরাই ভালো কলেজে সুযোগ পাচ্ছে, অথচ প্রকৃত যোগ্য শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে।’
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, যারা আগে তিন ধাপে আবেদন করেনি বা সিলেকশন পায়নি তাদের জন্য শেষ ধাপের ভর্তি আবেদন চলছে। আবেদন করতে হবে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে (www.xiclassadmission.gov.bd)। শেষ আবেদন গ্রহণের সময়সীমা ২২ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা পর্যন্ত, এবং ফলাফল প্রকাশ হবে ২৪ সেপ্টেম্বর।