অনলাইন ডেস্ক
সরকারের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের হাতে বছরের শুরুতে বিনামূল্যে পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে সেই বইয়ের এক বড় অংশ বেচাকেনা হয়েছে খোলাবাজারে। ২৩টি ছাপাখানা কর্তৃক ছাপানো পাঠ্যবই চড়া মূল্যে বিক্রি হয়েছে বলে একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনটি পেয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সংশ্লিষ্ট ছাপাখানা ও পরিবহন কনট্রাক্টরদের সতর্ক করেছে।
গোয়েন্দা রিপোর্টে যেসব ছাপাখানার নাম রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: রাব্বিল প্রেস, হাওলাদার প্রেস, মেরাজ প্রেস, ফরাজি প্রেস, ফাইজা প্রেস, শাপলা প্রেস, দিগন্ত প্রিন্টার্স, সোহাগ প্রিন্টার্স, টাইম মিডিয়া প্রেস, লেটার অ্যান্ড কালার প্রেস, মেঘদ্যুত প্রেস, টাঙ্গাইল প্রেস, আলিফ প্রেস, মৌসুমী প্রেস, জনতা প্রেস, এস আর প্রিন্টিং প্রেস, আনন্দ প্রিন্টার্স, রেদওয়ানিয়া প্রেস, অক্সফোর্ড প্রেস, মোল্লা প্রিন্টিং প্রেস, অটো প্রিন্টিং প্রেস, সৃষ্টি প্রিন্টার্স এবং গ্লোবাল প্রিন্টিং প্রেস।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বই সরবরাহ কাজে নিয়োজিত ১৬ পরিবহন কনট্রাক্টর এই অনিয়মে সরাসরি জড়িত। তারা হলেন:
আবুল বাতেন, মো. শুকুর আলী, রহমত আলী, চান মিয়া, রাসেল (এমআর ট্রান্সপোর্ট), মেহেদী, আলমাস, মো. রফিক, মহিদ হোসেন, বাবুল, আক্কাস আলী, রাজিব, খলিল, জীবন, আব্দুল কাদের এবং মনসুর।
এনসিটিবি জানিয়েছে, এই ১৬ জনকে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে বই সরবরাহের কাজে অন্তর্ভুক্ত না করতে ছাপাখানাগুলোকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এনসিটিবি তিন দিন ধরে হ্যান্ডবিল আকারে প্রতিবেদনটি ছাপাখানাগুলোর কাছে বিলি করেছে। যদিও এতে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন এর উদ্দেশ্য নিয়ে।
জনতা প্রেসের স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম কাজল বলেন, "পাঠ্যবই চুরির ঘটনায় আমরা জড়িত নই। কারা এই হ্যান্ডবিল ছড়িয়েছে জানি না। বরং যারা জড়িত, তারাই দোষ ঢাকতে আমাদের নাম ব্যবহার করছে।"
মোল্লা প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশনের স্বত্বাধিকারী মিন্টু মোল্লা দাবি করেন, “মূল হোতা হলেন আমিন আর্ট প্রেসের মো. সোহেল, সমতা প্রেসের রাকিব এবং পাঞ্জেরি প্রিন্টার্সের রায়হান। তারা নিজেরা সব বই ছাপায় না বরং অন্যান্য ছাপাখানার বই নিজেদের নামে সরবরাহ করে।"
তিনি জানান, প্রতি বই ৩০ টাকায় সংগ্রহ করে ১৩০ টাকায় বিক্রি করা হয়, অথচ ছাপাতে খরচ পড়ে ৭০ টাকা।
রাজধানীর বাংলাবাজার, নীলক্ষেত, মোহাম্মদপুর, উত্তরাসহ বিভিন্ন জায়গায় ১ জানুয়ারি থেকেই বই বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।