অনলাইন ডেস্ক
সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন ইস্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আজ বুধবার ফের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে আজ বেলা সাড়ে ১১টায় এই আলোচনা শুরু হবে। মূল আলোচ্য বিষয়—জুলাই সনদের সংবিধান সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়ন পদ্ধতি।
জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জাতীয় সংসদের উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজনের দাবি নতুন করে উত্থাপন করেছে। এই চারটি দল পাঁচ দফা দাবিতে ১৮, ১৯ ও ২৬ সেপ্টেম্বর তিন দিনের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে।
অন্যদিকে, জাগপা ৭ দফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—জুলাই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন, শেখ হাসিনার বিচার, ভারতের সঙ্গে গোপন চুক্তি বাতিল, জাপা ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধকরণ, এবং পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, "বিষয়গুলো রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে। এখনো সময় আছে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব।"
তবে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের দাবি করেছেন, "পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনে কোনো জটিলতা নেই। সাংবিধানিক আদেশেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব।"
অন্যদিকে, এনসিপি, এবি পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদ এই যুগপৎ আন্দোলনে নেই। তারা স্পষ্টতই ভিন্নমত পোষণ করছে। এনসিপি চায় গণপরিষদের মাধ্যমে, জামায়াত চায় সাংবিধানিক আদেশের মাধ্যমে, আর বিএনপি চায় জাতীয় সংসদ গঠনের পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে সংস্কার বাস্তবায়ন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলগুলোর অভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণাকে একটি সম্ভাব্য নির্বাচনকেন্দ্রিক সমঝোতার ইঙ্গিত বলেও দেখা যেতে পারে। কেউ কেউ একে সরাসরি নির্বাচনী মাঠে নামার প্রস্তুতি বলেও অভিহিত করছেন।
কমিশনের সঙ্গে ইতোমধ্যে দলগুলোর একাধিক অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছে। তবে এখনো বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে মতৈক্য হয়নি। কমিশন জানিয়েছে, সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি মূল সনদের অংশ নয়, এ বিষয়ে সরকারকে আলাদা সুপারিশ করা হবে।
কমিশনের সভাপতি ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত রবিবারও দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন।
এবারের আলোচনায় ৩০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, আজকের বৈঠকেই স্পষ্ট হবে—আগামী জাতীয় নির্বাচন জুলাই সনদের আলোকে অনুষ্ঠিত হবে কি না, কিংবা পিআর পদ্ধতির বিষয়ে কোনো সমাধান বেরিয়ে আসবে কিনা।