অনলাইন ডেস্ক
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা পাচারের চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন তারই প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা। আরামিট পিএলসি-এর সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) জাহাঙ্গীর আলম বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট-২ এর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
জবানবন্দিতে তিনি জানান, জাবেদ ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আব্দুল আজিজ, উৎপল পাল এবং সৈয়দ কামরুজ্জামান—এই চক্র বিদেশে হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে। পাচার হওয়া অর্থের গন্তব্য ছিল ভারত, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনাম।
দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) পোর্ট শাখা থেকে আমদানি ঋণের নামে ২৫ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়। এই অর্থ ভিশন ট্রেডিং নামের একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ দেখিয়ে, পরে তা স্থানান্তর করা হয় আলফা ট্রেডার্স, ক্ল্যাসিক ট্রেডিং, মডেল ট্রেডিং ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিং নামের চারটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানে।
প্রকৃতপক্ষে এসব কোম্পানির সবই ছিল আরামিট গ্রুপের কর্মচারীদের নামে গঠিত। টাকা উত্তোলনের পর বিদেশে পাচার করা হয়।
২২ সেপ্টেম্বর, জাবেদের স্ত্রী রুকমিলা জামান-এর গাড়িচালক ইলিয়াসের বাসা থেকে ২৩ বস্তা নথি উদ্ধার করে দুদক। উদ্ধারকৃত চেকের মাধ্যমে তোলা ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকার মধ্যে প্রায় ৮৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।
গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে যে অর্থ উত্তোলন হয়েছে:
ইসলামী ব্যাংক: ১ কোটি টাকা
জনতা ব্যাংক: ৩০ লাখ
সোনালী ব্যাংক: ৩৬ লাখ
মেঘনা ব্যাংক: ১০ লাখ
🔴 ইন্টারপোল রেড নোটিশ ও সম্পদ জব্দের আদেশ
চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুর রহমান গত ২১ সেপ্টেম্বর জাবেদ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দিয়েছেন।
তাদের নামে বিদেশে বিপুল সম্পদ থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে:
যুক্তরাজ্যে: ৩৪৩টি স্থাবর সম্পত্তি
সংযুক্ত আরব আমিরাতে: ২২৮টি
যুক্তরাষ্ট্রে: ৯টি
তারা বর্তমানে দেশত্যাগে নিষিদ্ধ এবং তাদের নামে থাকা ৩৯টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।