ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অভাবের তাড়নায় দুই সন্তান বিক্রি করলেন ৭ সন্তানের জননী।
আলি ইমাম, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া :
অভাব মানুষকে কতটা অসহায় করে তোলে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ঘটেছে তার নির্মম প্রমাণ। অভাবের তাড়নায় নিজের রক্তের সন্তানকে অন্যের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হয়েছেন এক বাবা-মা। মাত্র কয়েক হাজার টাকার বিনিময়ে দুই সন্তান বিক্রি করেছেন তারা। এ হৃদয়বিদারক ঘটনাটি এখন এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের শ্রীঘর গ্রামের হতদরিদ্র লালন মিয়া ও তার স্ত্রী মারুফা বেগম লিখিতভাবে মোট ৯৫ হাজার টাকায় দুই সন্তান বিক্রি করেছেন। ২০২৪ সালে প্রথম সন্তানকে ৪৫ হাজার টাকায় এবং মাত্র দশ দিন আগে জন্ম নেওয়া নবজাতককে ৫০ হাজার টাকায় অন্যের কাছে তুলে দেন তারা।
লালন মিয়া ও তার স্ত্রী জানান, তাদের কোনো জায়গা-জমি বা বসতবাড়ি নেই। অন্যের জমিতে পরিত্যক্ত একটি ঝুপড়ি ঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন তারা। সংসার চলে মূলত মারুফার ভিক্ষার টাকায়। ৭ সন্তানের মধ্যে তাদের ৫ সন্তান রয়েছে। তিনবেলা খাবার জোটানোই যেখানে দুঃসাধ্য, সেখানে নতুন সন্তানের দায়িত্ব নিতে না পেরে তারা সন্তানকে অন্যের কাছে তুলে দিয়েছেন। তবে তাদের দাবি, এটি সন্তান বিক্রি নয়, বরং দত্তক দেওয়া। খুশি হয়ে নতুন অভিভাবকরা ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ বলেন । বিষয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাচ্চাটি অসুস্থ ছিল। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় টাকা জোগাড় করতে না পেরে পরিবারটি গভীর সংকটে পড়ে। টাকার অভাবে সন্তানের চিকিৎসা অসম্ভব হয়ে পড়ায় শেষমেশ বাধ্য হয়ে শিশুটিকে বিক্রি করে দেয় তারা।
বুড়িশ্বর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. গোলাপ মিয়া বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না, পরে এসে শুনেছি। এখন গিয়ে খোঁজ নেব।”
একই গ্রামের বাসিন্দা ও নাসিরনগরের ব্যবসায়ী শেখ কাউছার মিয়া জানান, “শুনেছি, গত বছরও তারা একটি সন্তান বিক্রি করেছিলেন, এবারও একই ঘটনা ঘটল।
এ বিষয়ে নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাছরিন জানান, “আমি ঘটনাটি শুনেছি। বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে খোঁজ নেব। পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গেও কথা বলব। ওই পরিবারকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে একটি ঘর দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। এছাড়া তারা যদি সমাজসেবা অধিদপ্তরে আবেদন করেন, তাহলে তাদের একটি দোকান দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
অভাব-অনটনের কাছে হার মানা এ পরিবারটি এখন প্রশাসনের সহায়তার অপেক্ষায়। তাদের এই করুণ বাস্তবতা যেন আর কোনো অভাবী পরিবারের জীবনে না আসে—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।