অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান জানিয়েছেন, ব্যস্ততার কারণে ডাকসু নির্বাচনের জন্য নীলক্ষেতে ব্যালট ছাপানো ও কাটিংয়ের বিষয়টি ভেন্ডর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করেনি।
রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মতিন ভার্চ্যুয়াল ক্লাসরুমে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
🔹 ভেন্ডরের জবাব: অবহিত না করার কারণ ‘ব্যস্ততা’
উপাচার্য বলেন,“সব নিয়ম মেনে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে একটি অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে ব্যালট পেপার ছাপানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ভোটার ও প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় দ্রুত ব্যালট প্রস্তুতের প্রয়োজনীয়তা ছিল। সে কারণে মূল ভেন্ডরের অধীনে একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানকেও যুক্ত করার অনুমতি দেওয়া হয়।"
কিন্তু নীলক্ষেতে ব্যালট ছাপানোর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সহযোগী ভেন্ডর অবহিত করেনি, যা প্রশাসনের অজানা ছিল। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইলে ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ব্যস্ততার কারণে তারা ভুলবশত বিষয়টি জানাতে পারেনি।
🔹 নীলক্ষেতে কত ব্যালট ছাপা হয়েছে?
ভেন্ডরের দেয়া তথ্যানুযায়ী:
২২ রিম কাগজ ব্যবহার করে ৮৮,০০০ ব্যালট ছাপা হয়
প্রিন্টিং, কাটিং ও প্রি-স্ক্যান শেষে ৮৬,২৪৩টি ব্যালট ব্যবহারযোগ্য করা হয়
অতিরিক্ত ব্যালট নিয়ম মাফিক ধ্বংস করা হয়
ছাপানোর পর ব্যালটগুলো প্রি-স্ক্যান ও সিলগালার জন্য মূল অফিসে নিয়ে যাওয়া হয় এবং এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে সরবরাহ করা হয় প্রস্তুত ব্যালট প্যাকেট।
🔹 “সুষ্ঠু নির্বাচনে ব্যালট ছাপার স্থান প্রভাব ফেলে না” — উপাচার্য
প্রক্রিয়াগত ব্যাখ্যায় উপাচার্য বলেন, “শুধুমাত্র ব্যালট ছাপার স্থান বা সংখ্যা সুষ্ঠু নির্বাচনের নির্ধারক নয়। ব্যালট প্রস্তুত করতে কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন করতে হয় — ছাপা, কাটিং, সুরক্ষা কোড যুক্তকরণ, ওএমআর মেশিনে স্ক্যান, রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও সিল — সবই হয়েছে যথাযথভাবে।”
🔹 মোট কত ব্যালট প্রস্তুত ও ব্যবহার হয়েছে?
মোট ভোটার: ৩৯,৮৭৪
ভোটার প্রতি ব্যালট: ৬টি
মোট ব্যালট প্রস্তুত: ২,৩৯,২৪৪
ভোট দিয়েছেন: ২৯,৮২১ জন
ব্যবহৃত ব্যালট: ১,৭৮,৯২৬
অবশিষ্ট ব্যালট: ৬০,৩১৮
🔹 সিসিটিভি ফুটেজ ও ভোটার তালিকা নিয়ে অবস্থান অপরিবর্তিত
সিসিটিভি ফুটেজ ও ভোটারদের স্বাক্ষরিত তালিকা দেখার দাবির বিষয়ে উপাচার্য বলেন, “যেকোনো প্রার্থী চাইলে সুনির্দিষ্ট সময় বা ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে পারবেন — তবে সেটি নির্ধারিত প্রক্রিয়ায়, মনোনীত বিশেষজ্ঞের উপস্থিতিতে।"
তিনি আরও জানান, ভোটার তালিকায় স্বাক্ষর পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য — যথাযথ কারণ দেখিয়ে আবেদন করতে হবে।