এক শিফটের স্কুলে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে চারটি এবং তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণিতে ছয়টি পিরিয়ড, দুই শিফটের স্কুলে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে প্রতিদিন চারটি পিরিয়ড ও তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে পাঁচটি পিরিয়ডসহ দক্ষতা উন্নয়ন ক্লাশ, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য সপ্তাহে ২ দিন নিরাময়মূলক ক্লাশ নিয়ে নতুন সাপ্তাহিক রুটিন প্রকাশ করেছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)।
শিক্ষার্থীদের শিখন-শেখানো কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ক্লাস রুটিন আনুষ্ঠানিকভাবে নেপের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়।
রুটিনে বাংলা, ইংরেজি ও গণিত ক্লাশ সপ্তাহে পাঁচদিন নিশ্চিত করাসহ বিজ্ঞান সপ্তাহে চারদিন, ধর্ম শিক্ষা তিনদিন এবং শিল্পকলা দুইদিন রাখা হয়েছে। এছাড়াও শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য চতুর্থ শ্রেণিতে সপ্তাহে দুইদিন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে একদিন পড়ানো হবে।
বিভিন্ন সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম যেমন হাতের লেখা, গল্প বলা, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাংকন, কুইক-কুইজ, উদ্ভাবনী আইডিয়া, বিজ্ঞান, ইংলিশ স্পিকিং, এসআরএম, কাবিং ইত্যাদি প্রতিযোগিতার সুযোগ রাখা হয়েছে। পড়ালেখার ঘাটতি পূরণে রয়েছে সপ্তাহে দুইদিন নিরাময়মূলক কাজ ও এসআরএম।
সাধারণ নির্দেশনায় এতে বলা হয়, প্রধান শিক্ষকেরা নিজ বিদ্যালয়ের সুবিধা অনুযায়ী নির্ধারিত বিষয়ের পিরিয়ডে বরাদ্দ করা সময় ঠিক রেখে রুটিন পরিবর্তন করতে পারবেন। গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন সময় বা ভৌগোলিক অবস্থা বা জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্থানীয় পর্যায়ে রুটিনে পরিবর্তন করা যাবে। সুবিধাজনক সময়ে প্রধান শিক্ষকেরা স্টাফ মিটিং আয়োজন করবেন। প্রতিটি প্রান্তিক মূল্যায়ন চলাকালীন প্রধান শিক্ষক সুবিধা অনুযায়ী লিখিত, মৌখিক বা ব্যবহারিক মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, যেকোনো মূল্যায়নের উত্তরপত্র অন্তত এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হবে। প্রধান শিক্ষক বিশেষ প্রয়োজনে বা জরুরি পরিস্থিতিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে রুটিন আংশিক পরিবর্তন করতে পারবেন। যেসব স্কুলে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী রয়েছে, তাদের তৃতীয় শ্রেণিতে নিজ ভাষায় রচিত পাঠ্যবই অনুযায়ী পাঠদান করতে হবে।