অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি গাড়ির ভুয়া জ্বালানি খরচ দেখিয়ে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে নগর ভবনে অভিযান চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রবিবার সকাল থেকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট এই অভিযান পরিচালনা করছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম।
অভিযোগের বিবরণ
দুদক সূত্র জানায়, অভিযোগ রয়েছে—ডিএসসিসির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বাস্তবে গাড়ি ব্যবহার না করেও জ্বালানি খরচের ভুয়া বিল দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ উত্তোলন করেছেন এবং তা আত্মসাৎ করেছেন।
বিশেষ করে গত মে ও জুন মাসে, যখন নগর ভবনের কার্যক্রম টানা ৪০ দিন বন্ধ ছিল, তখনও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাদ্দ করা গাড়ির প্রতিদিন গড়ে ১৪–১৫ লিটার জ্বালানি খরচ দেখানো হয়েছে। অথচ এ সময়ে বাস্তব কোনো অফিস কার্যক্রমই পরিচালিত হয়নি।
প্রসঙ্গত, ওই সময় বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার দাবিতে চলমান আন্দোলনের কারণে নগর ভবনে কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
ডিএসসিসির তথ্যমতে, প্রতিষ্ঠানটি প্রতি মাসে জ্বালানি বাবদ ব্যয় করে প্রায় ৫ কোটি টাকা। কার্যক্রম বন্ধ থাকা অবস্থায়ও তেলের খরচে অস্বাভাবিক কোনো হ্রাস ঘটেনি, যা সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।
দুদকের বক্তব্য
দুদক জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের কিছু সত্যতা মিলেছে, এবং এ কারণেই এনফোর্সমেন্ট ইউনিট অভিযানে নেমেছে। অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, বিল, অফিস চলাচলের রেজিস্টার, গাড়ির লগবুক ইত্যাদি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, “অভিযান এখনো চলমান। সংশ্লিষ্ট নথি জব্দ ও যাচাই শেষে প্রমাণ পাওয়া গেলে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান ও প্রয়োজনে মামলা করা হবে।”
জনগণের প্রশ্ন ও উদ্বেগ
এ ঘটনায় সরকারি অর্থের অপব্যবহার নিয়ে জনমনে ব্যাপক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। নগরবাসীর একাংশ বলছে, “যেখানে সাধারণ মানুষ জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা, সেখানে সরকারি কর্মকর্তারা কাজ না করেও রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ করছেন—এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”