অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ও সিআইডি তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে—নামে ব্যবসায়ী, তবে মূলত প্রতারক মোতাল্লেছ হোসেন প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ২৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ নানা প্রভাবশালী ব্যক্তিকে ব্যবহার করে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্র।
বিএফআইইউ সূত্রে জানা গেছে, মোতাল্লেছ হোসেন ও তার ভাই মিলে ভুয়া ঠিকানায় ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকে সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। মাত্র তিন মাসে একটি একাউন্টে জমা হয় ৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। একই সময়ে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে মোটা অঙ্কের লেনদেনের তথ্যও উঠে এসেছে, যার সঙ্গে বাস্তব ব্যবসায়িক কার্যক্রমের কোনো মিল নেই।
তদন্তে উঠে আসে, গুলশান, মিরপুর ও যশোরে খোলা অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে টাকা ঘুরানো হয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। এমনকি কর রিটার্নেও প্রকৃত আয় গোপন করেন মোতাল্লেছ। শেষ রিটার্নে তিনি মাত্র সাড়ে ৪ লাখ টাকা আয় দেখিয়েছেন, যেখানে ব্যাংকে লেনদেন হয়েছে কোটি কোটি টাকা।
তবে শুধু আর্থিক নয়, প্রতারণার জালে ব্যবহার করা হয়েছে পুলিশের একজন অতিরিক্ত ডিআইজিকে। ওই কর্মকর্তার নাম মোতাল্লেছের ব্যাংক হিসাবের নমিনিতে যুক্ত রয়েছে। যদিও তিনি জানিয়েছেন, “কীভাবে আমি নমিনি হলাম, সেটি আমারও অজানা।”
এদিকে প্রতারণার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন আরও অনেক বিনিয়োগকারী, যারা মোতাল্লেছের কথায় লোভে পড়ে টাকা দিয়েছিলেন। সিআইডি ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে এবং একটি প্রাথমিক প্রতিবেদনও জমা পড়েছে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, মিরপুরের একটি ঠিকানা (১১/এ, মেইন রোড-৩, প্লট-১০) ব্যবহার করে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া হলেও সেখানে এমএল ট্রেডিং নামের কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। স্থানীয়রা জানান, ওই ঠিকানা বহু ভুয়া ব্যবসায়িক কাগজে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং নিয়মিত ভ্যাট ও কর কর্মকর্তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খুঁজে সেখানে যান।
মোতাল্লেছ বর্তমানে দেশের বাইরে থাকার দাবি করেছেন। যুগান্তরের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, “এটি একটি চক্রান্ত। কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও প্রতিহিংসাপরায়ণ আইনজীবী এ ষড়যন্ত্রে জড়িত।” তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ আত্মসাত ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সন্দেহের তালিকায় থাকা তার ভাই মোদাচ্ছের হোসেনও দাবি করেন, “যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে আমার ভাই মোতাল্লেছ নয়। নামের মিলেই এই জটিলতা।” তবে তার একাউন্টেও মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে, যা ব্যবসায়িক লেনদেন বলে দাবি করেন তিনি।
বিষয়টি নিয়ে সিআইডি’র একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “বিষয়টি তদন্তাধীন। প্রাথমিকভাবে অর্থপাচার, প্রতারণা ও সরকারি কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে প্রতারণার তথ্য মিলে গেছে। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”