অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শেখ ইবনে সাবিতের কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকার নতুন আইফোন ১৬ প্রো-ম্যাক্স জব্দ করা হলেও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিজেই সেটি নিজের পকেটে রেখে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গ্রেফতারির প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ওই আইফোন জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মো. আখতার মোর্শেদ, যিনি ডিবি পুলিশের রমনা বিভাগে কর্মরত, অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ফোনটি আমার কাছে আছে এবং তদন্তের জন্য রাখা হয়েছে। পরিবার যোগাযোগ করলে ফোনটি ফিরিয়ে দেওয়া হবে।’ তবে এই ঘটনার পর ইবনে সাবিতের পরিবারকে নানা হুমকি-ধমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের রমনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপকমিশনার মো. ইলিয়াস কবির বলেন, ‘কিছু জিনিস আমরা পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে থাকি, তারা যোগাযোগ করেনি। ফোন জব্দ তালিকায় দেখানো হয়নি কেন, সেটা তদন্ত করে দেখা হবে।’
আইন অনুযায়ী, গ্রেফতার ও জব্দকৃত মালামালের তালিকা দ্রুত আদালতে পেশ করতে হবে, যা পুলিশ প্রশাসন ব্যতীত অন্য কেউ নিজস্বভাবে রাখতে পারেন না। সাবেক পুলিশ আইজিপি মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, ‘গ্রেফতারের পর আসামির কাছ থেকে পাওয়া জিনিস আদালতে বিস্তারিত জানানো বাধ্যতামূলক।’
গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ‘ডিবি হারুন’ আমলের মতো নিন্দার মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন অনেক পুলিশ কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, শেখ ইবনে সাবিতকে গত ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউমার্কেট থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পক্ষে ৩১ আগস্ট ঢাকার ধানমন্ডিতে নিষিদ্ধ মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আটক হন। গ্রেফতারের সময় দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তার ফোন আত্মসাতের অভিযোগের কারণে মামলা বর্তমানে আদালতে গড়িয়েছে।