অনলাইন ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ফ্রিডম ফ্লোটিলার অভিযানে অংশ নেওয়া সব নৌযান এখন একসঙ্গে গাজা অভিমুখে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন দাঁড়িক (দৃক)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আলোকচিত্রী শহিদুল আলম।
শনিবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে শহিদুল আলম বলেন, ইতালির তীর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর রওনা হওয়া কনশানস নামের জাহাজটি বহরের পিছনের দিক থেকে দ্রুত গতিতে চলার ফলে সামনে থাকা আটটি নৌযানকে স্পর্শ করেছে। পরে কনশানসের গতি ধীর করে সব নৌযান একসঙ্গে গাজার পথে এগিয়ে চলছে বলে জানান তিনি।
শহিদুল আলম তার পোস্টে লিখেছেন, ‘থাউজেন্ড ম্যাডলিনস একটি অবিস্মরণীয় ধারণা। জাতিগত নিধন ঠেকাতে বিশ্বনেতাদের পুরোপুরি নিষ্ক্রিয়তা ও কপট ভূমিকার কারণে বিশ্বের জনগণ নিজেই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। হাজারো জাহাজের ধারণাটি প্রতীকী — তবে নিঃসন্দেহে এটি সমুদ্রযানের সবচেয়ে বড় বহর।’
সংবাদে আনন্দের মতো উল্লেখ করা হয়েছে, কনশানস হলো আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (এফএফসি) এবং থাউজেন্ড ম্যাডলিনস টু গাজা (টিএমটিজি) নৌবহরের একটি জাহাজ। এফএফসি গাজার অবরোধ ভাঙতে ও সেখানে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগে যুক্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগের অংশ। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ফ্লোটিলায় কোনো খাদ্যসামগ্রী বহন করা হচ্ছে না; অনেকে এটিকে প্রতীকী ও রাজনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।
শহিদুল আরও বলেন, “কনশানস সবার শেষে রওনা করলেও এটা বহরের মধ্যে দ্রুততার কারণে আগে থাকা নৌযানগুলোকে ছুঁয়ে ফেলেছে; এখন গতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে এবং আমরা সবাই একযোগে এগোচ্ছি। আমরা অবরোধ ভাঙতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ — যদি আমাদের আটকায়, অন্যমাত্রা এগিয়ে আসবে।”
পাশাপাশি শহিদুল আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে জনগণের ঐক্য ও শান্তিপূর্ণ উদ্যোগের সামনে জোরাল দমন-পীড়নও টিকবে না, এবং তিনি মুক্তি-চেতনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন: “দমন–পীড়নকারী কখনোই জনগণের শক্তির বিরুদ্ধে টিকে পারেনি। ইসরাইলও ব্যর্থ হবে। মুক্ত হবে ফিলিস্তিন।”
এই অভিযানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা, মানবাধিকার কর্মী ও কূটনীতিক মহল থেকে বিবিধ প্রতিক্রিয়া ও আলোচনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অভিযানটি কি ভাবে এগোবে, এবং তা সমুদ্র নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে কোন প্রতিক্রিয়া ডেকে আনবে— সে বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য ও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার ওপর নজর রাখা দরকার।