নিজস্ব প্রতিবেদক
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডকে (এসআইবিএল) কোনো ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত না করে প্রকৃত উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডারদের কাছে ব্যাংকের পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন গ্রাহক, বিনিয়োগকারী এবং সাবেক পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা।
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. মেজর (অব.) এম রেজাউল হক। উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ডা. মো. জাহাঙ্গীর, উদ্যোক্তা চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক পরিচালক আসাদুজ্জামান, এবং শেয়ারহোল্ডার জাবেদ হোসেন।
🔍 মূল অভিযোগ ও উদ্বেগ
২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ-এর দ্বারা ব্যাংকের পরিচালনা দখল নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়, যা শেখ হাসিনার নির্দেশে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় সংঘটিত হয় বলে দাবি করা হয়।
এসআইবিএল দখলের আগে শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বদা দ্বিতীয় স্থানে ছিল বলে দাবি বক্তাদের।
সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনভিজ্ঞ ৪ জন স্বতন্ত্র পরিচালক ও ১ জন উদ্যোক্তা পরিচালক দিয়ে পর্ষদ গঠন করায় অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
উদ্যোক্তাদের বাদ দিয়ে একজন অনভিজ্ঞ স্বতন্ত্র পরিচালককে চেয়ারম্যান করায় সিদ্ধান্তকে অদূরদর্শী বলা হয়।
ফলে, গ্রাহকদের আস্থাহীনতায় ডিপোজিট তুলে নেওয়া শুরু হয় এবং ব্যাংক আর্থিক সংকটে পড়ে।
📉 পরিচালনার অযোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার অভাব
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালনা পর্যায়ে কেউই ইসলামী ব্যাংক পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নন। এর ফলে ব্যাংকের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
✅ প্রস্তাব ও দাবি
বক্তারা দাবি করেন:
এসআইবিএল-কে অন্য কোনো ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত না করা হোক।
ব্যাংকের পরিচালনার দায়িত্ব আসল উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডারদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় তারা ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে এবং আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।