নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের পাঁচটি বেসরকারি ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে একটি নতুন ব্যাংক গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একীভূত ব্যাংকের নাম হবে ‘ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক’। এই উদ্যোগের আওতায় প্রথম ধাপে ২ লাখ টাকার কম আমানতকারীরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুরো টাকা একবারে ফেরত পাবেন বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলো হলো: ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক। এসব ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার ক্রমাবনতি এবং উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই উদ্যোগ নিয়েছে।
চলতি অক্টোবর মাসেই ব্যাংকগুলোর ওপর প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে এবং সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে নতুন ব্যাংক গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। রাজধানীর মতিঝিলের সেনাকল্যাণ ভবনে ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংকের প্রকল্প কার্যালয় খোলা হবে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ২ লাখ টাকার কম যাঁদের জমা রয়েছে, তাঁরা আতঙ্কমুক্তভাবে সম্পূর্ণ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। অন্যদিকে, যাঁদের আমানত ২ লাখ টাকার বেশি, তাঁদের টাকা ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়া হবে। এ ছাড়া বড় আমানতকারীদের ২০ শতাংশ অর্থ নতুন ব্যাংকের শেয়ারে রূপান্তরের প্রস্তাবও থাকছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, “ক্ষুদ্র আমানতকারীদের আস্থা ফেরানোই হবে এ উদ্যোগের মূল চাবিকাঠি। তাঁদের আতঙ্ক না কমলে নতুন ব্যাংকের কার্যক্রম ব্যাহত হবে।”
মোট মূলধন: ৩৫,০০০ কোটি টাকা
সরকার দেবে: ২০,০০০ কোটি টাকা
বাংলাদেশ ব্যাংকের তহবিল ও প্রাতিষ্ঠানিক আমানত থেকে: ১৫,০০০ কোটি টাকা
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই পাঁচ ব্যাংকের মে ২০২৫-এ সম্মিলিত আমানত ছিল ১,৩৬,৫৪৬ কোটি টাকা এবং ঋণ ছিল ১,৯৫,৪১৩ কোটি টাকা। সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, পাঁচ ব্যাংকের সম্মিলিত খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১,৪৭,০০০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ৭৭ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, একীভূত ব্যাংকটি যেন একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারে, সে জন্য একটি দক্ষ পরিচালনা পর্ষদ ও পেশাদার ব্যবস্থাপনা গঠনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।