নিজস্ব প্রতিবেদক
দেউলিয়াত্বের মুখে পড়া রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংককে (রাকাব) টিকিয়ে রাখতে ২ হাজার কোটি টাকার ঋণ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই ঋণের বিপরীতে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি দিচ্ছে সরকার, তবে নির্ধারিত হয়েছে ৫টি শর্ত।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের ট্রেজারি অ্যান্ড ডেবট ম্যানেজমেন্ট (টিডিএম) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়।
এর আগে ‘বিশেষ কৃষি ও পল্লি ঋণ কর্মসূচি’ থেকে নেওয়া ১ হাজার কোটি টাকার ঋণ সময়মতো পরিশোধ করতে না পারায়, তার মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে।
ঋণের শর্তাবলি
টিডিএম সূত্র জানায়, রাকাবকে নতুন ঋণ দিতে পাঁচটি শর্ত দেওয়া হয়েছে—
১. ব্যবসায়িক পরিসর বৃদ্ধি
২. খেলাপি ঋণ হ্রাস
৩. দক্ষ ব্যাংক ব্যবস্থাপনার রূপরেখা প্রস্তুত
৪. এক মাসের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে দাখিল
৫. পূর্বের ঋণ যথাসময়ে পরিশোধ না করলে আর কোনো গ্যারান্টি নয়
অর্থ মন্ত্রণালয়ের টিডিএম উইং প্রধান মোহা. রাশেদুল আমীন বলেন, “ব্যাংকটিকে ঋণ না দিলে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেত। যেহেতু রাকাব কৃষি খাতে কাজ করে, তাই উৎপাদন কার্যক্রম বজায় রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
রাকাবের আর্থিক চিত্র
রাকাবের বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ২১ শতাংশ বর্তমানে খেলাপি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটির মোট ঋণ বিতরণ ছিল ৭,১৭৮ কোটি টাকা, এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ১,৪৫১ কোটি টাকা।
উচ্চ সুদে আমানত সংগ্রহ করে সরকার নির্ধারিত কম সুদে ঋণ বিতরণের ফলে ১,৫৮২ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে ব্যাংকটির। কৃষিঋণের নামে পুনঃঅর্থায়নের টাকা ব্যবহার হয়েছে উত্তরাঞ্চলের হিমাগার ও অটোরাইস মিল মালিকদের ক্ষেত্রেও।
একীভূত না হয়ে ঋণেই বাঁচার চেষ্টা
এর আগে রাকাবকে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের (বিকেবি) সঙ্গে একীভূত করার প্রস্তাব ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে। তবে এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে আপাতত নতুন ঋণ দিয়েই ব্যাংকটির কার্যক্রম সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।