অনলাইন ডেস্ক
দেশের ব্যাংক খাতে চলমান সংকট ও ঋণখেলাপির লাগাম টানতে এবার রাষ্ট্রায়ত্ত দুর্বল ব্যাংকগুলো একীভূত করার সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে দুর্বল কোনো সরকারি ব্যাংককে সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার প্রস্তাবনা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর গত সপ্তাহে এক বৈঠকে বলেন, “দুর্বল কোনো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংককে সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করলে অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে না, কারণ সোনালী ব্যাংকের তারল্য যথেষ্ট।”
ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা, অর্থ সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ শেষে দেশের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকা, যা মোট খেলাপি ঋণের ৩৬.৫ শতাংশ।
সবচেয়ে সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলো হলো:
জনতা ব্যাংক: ৭০,৮৪৬ কোটি টাকা (মোট ঋণের ~৭৫%)
অগ্রণী ব্যাংক: ২৯,৭২১ কোটি টাকা
সোনালী ব্যাংক: ১৯,০৯১ কোটি টাকা
রূপালী ব্যাংক: ১৭,১২২ কোটি টাকা
এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাঁচটি ইসলামি বেসরকারি ব্যাংক—
১. ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক
২. গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক
৩. ইউনিয়ন ব্যাংক
৪. সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক
৫. এক্সিম ব্যাংক
—একীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই একীভূতকরণে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপোজিটরি ইনস্যুরেন্স ফান্ড থেকে আরও ১২ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেবে।
নতুন গঠিত ব্যাংকটিকে বেসরকারি মডেলে পরিচালিত করা হবে এবং আগামী তিন বছরের মধ্যে বিদেশি ক্রেতার কাছে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে।
গভর্নর বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে সরকারের কাছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বিষয়ে প্রতিবেদন দিয়েছে। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। তবে একীভূত ব্যাংকটি যেন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্তভাবে বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত হয়, সেটাই মূল চাওয়া।”
এ সময় তিনি আরও জানান, ব্যাংক ব্যবস্থাপনার হাতে থাকবে নিয়োগ ও ছাঁটাইয়ের পূর্ণ ক্ষমতা।